ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ , ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নান্দাইলে ১৪ শিক্ষকের আলোতেও দাখিলে জ্বলেনি সাফল্যের প্রদীপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১২ ১০:১৬:১৯
নান্দাইলে ১৪ শিক্ষকের আলোতেও দাখিলে জ্বলেনি সাফল্যের প্রদীপ নান্দাইলে ১৪ শিক্ষকের আলোতেও দাখিলে জ্বলেনি সাফল্যের প্রদীপ
তৌহিদুল ইসলাম সরকার, ময়মনসিংহের-



নান্দাইল উপজেলার কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষকতিনজন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এমন ফলাফল ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর নান্দাইলের ৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৮৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৭৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চিত্র উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি গ্রামে ১৯৯৮ সালে কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।


বর্তমানে সেখানে ১৪ জন শিক্ষকতিনজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী থাকলেও চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচজন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। এমপিওভুক্ত না হওয়াকে কারণ বলছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার সুপার আকলিমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা নেই। এতে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর নিয়মিত তদারকির ঘাটতিও ছিল। এসব কারণে পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তদারকির ঘাটতির কথা জানাল শিক্ষা অফিস নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত নয়। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নেই। এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম ও তদারকিতেও পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পরীক্ষা তুলনামূলক কঠোর হওয়ায় ফলাফলে তারও প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন একটি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও পরীক্ষার্থীদের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের কার্যকারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু শিক্ষকসংখ্যা নয়—নিয়মিত পাঠদান, জবাবদিহি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাও ভালো ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ